গান্ধীজীর যে ইতিহাস লুকিয়ে রাখা হয়েছে | Dark Side of Gandhi
ক্লাস ওয়ান থেকে শুরু করে গ্রাজুয়েশন পর্যন্ত আমাদের ইতিহাস বইতে একটা কথা বারবার তুলে ধরা হয়। যে ভারতের স্বাধীনতায় গান্ধীজির ভূমিকা ছিল । সবথেকে বেশি কিন্তু 1947 সালে ব্রিটিশরা যখন ভারত ছেড়ে চলে যায়।
তৎকালীন ব্রিটেনের প্রাইম মিনিস্টার ক্লিমেন অ্যাটলি বলেছিলেন গান্ধীজি নয় নেতাজীর জন্যই ব্রিটিশরা ভারত ছেড়েছিল এমনকি যে গান্ধীজিকে একজন সাধু বা সন্তের মত আমাদের দেশে তুলে ধরা হয়।
তিনি নগ্ন হয়ে যুবতীদের সাথে রাত কাটাতেন এমনকি তিনি যুবতীদের সাথে নগ্ন হয়ে স্নানও করতেন তিনি মনে করতেন কোন মহিলা যাকে ধর্ষণ করা হয়েছে।
তাকে চাইলে তার পরিবার নিজেদের সম্মান বাঁচানোর জন্য হত্যা করতে পারেন এক কথায় গান্ধীজির মতে একজন ধর্ষিতা মেয়ের বেঁচে থাকার কোন অধিকার নেই এমনকি গান্ধীজি একটা সময় বর্ণভেদ প্রথাকেও সমর্থন করতেন এমনকি তিনি একজন বর্ণবিদ্বেষী বা রেসিস্ট ছিলেন ।
এবার প্রশ্ন হচ্ছে এই সমস্ত অ্যাললিগেশন কি আদৌ সত্যি নাকি গান্ধীজির মত একজন মহান ব্যক্তির চরিত্রকে কালিমা লিপ্ত করতে কিছু মানুষ এই ধরনের গুজব ছড়ায় আর যদি এই গুলো সত্যি হয় তাহলে কেন আজও মানুষ তাকে এত সম্মান দেয় কেন তাকে মহাত্মা বলা হয় বন্ধুরা আমি রয়েছি মিঠুন আপনাদের সাথে আজকের ভিডিওতে গান্ধীজির সেই ডার্ক সাইট গুলো নিয়ে কথা বলব ।
যেগুলোকে এতদিন আমাদের চোখের আড়ালে রাখার চেষ্টা করা হয়েছে তবে আজকের এই ভিডিও শুরুর আগেই আপনাদের সবার জন্য একটা প্রশ্ন থাকবে যার উত্তর আপনি সম্পূর্ণ মন দিয়ে দেখে তারপর জানাবেন প্রশ্নটা হলো কোন একটা মানুষ যদি তার জীবনে দশটা ভালো কাজ করে তাহলে তার দ্বারা করা কি বাকি চারটা খারাপ কাজ কি ইগনোর করা উচিত প্রশ্নের উত্তর কিন্তু কমেন্ট বক্সে অবশ্যই এই ভিডিওটা দেখে তারপর জানাবেন
Sleep Experiment of Gandhi
একটি মেয়েটির নাম হলো মানু ব্যান যে সম্পর্কে গান্ধীজির নাতনী এবং তার পার্সোনাল অ্যাসিস্ট্যান্ট এই মানু ব্যানের বয়স তখন ছিল মাত্র 17 বছর আর ডানদিকে থাকা এই মেয়েটির নাম আভাব ব্যানার্জী যে গান্ধীজির ভাইপো কানু গান্ধীর স্ত্রী আর এই আভা ব্যানার্জীর বয়স ছিল।
18 বছর তবে ছবিটা যদি কেউ প্রথমবার দেখে তারা ভাববেন যে গান্ধীজির সাথে এই দুজনের একটা কন্যাসুলভ সম্পর্ক রয়েছে। কিন্তু বাস্তবে কিন্তু তা ছিল না বিখ্যাত লেখক গান্ধী বায়োগ্রাফার রামচন্দ্র গুহ তার গান্ধী বিফোর ইন্ডিয়া বইতে গান্ধীজির সাথে মানুব্যান এবং আভা ব্যানার্জী এক অদ্ভুত এক্সপেরিমেন্টের কথা তুলে ধরেছেন।
যেখানে বলা হয়েছে যে গান্ধীজি এই মানুব্যান এবং আভার সাথে রাতের বেলায় বিছানায় নগ্ন অবস্থায় ঘুমাতেন শুধুমাত্র এই দুজন নয় গান্ধীজি তার পার্সোনাল ডক্টর সুশীলা নায়ারের সাথেও নগ্ন হয়ে ঘুমাতেন আর এই কাজটা গান্ধীজি করতেন নিজের সেলফ কন্ট্রোলকে টেস্ট করার জন্য আর আপনাদেরকে বলে দিই এই যে সুশীলা নায়ারের কথা আমি বলছি।
উনি কিন্তু পরবর্তীকালে গিয়ে হেলথ মিনিস্টার হয়েছিলেন তবে গান্ধীজি এদের সাথে শুধুমাত্র নগ্ন হয়ে শুতেন না গান্ধীজি তার আশ্রমগুলোতেও বেশ কিছু অদ্ভুত এক্সপেরিমেন্ট করেছিলেন যেমন তার আশ্রমগুলোতে ছেলে ও মেয়েরা একসঙ্গে স্নান করতে পারতো।
কিন্তু তাদের স্ট্রিক্টলি বারণ করা হয়েছিল তারা যেন কারো সাথে কোনরকম শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত না হয় আবার অন্যদিকে তার আশ্রমে থাকা স্বামী-স্ত্রীদের রাতে একসঙ্গে ঘুমানোর উপরে নিষেধাজ্ঞা ছিল তার আশ্রমে আরো বেশ কিছু নিয়ম ছিল।
যেমন ধরুন যদি কোন পুরুষ বা স্ত্রীর মনে কোন সেক্সুয়াল ডিজাইয়ার আসে তখন সাথে সাথে তারা গিয়ে যেন ঠান্ডা জলে স্নান করে এবং নিজেদেরকে শান্ত করে আর এগুলো কিন্তু কোন রকম কোন গুজব নয় কারণ এই যে মানুবেনের কথা আমি আপনাদেরকে বললাম তার পার্সোনাল ডায়রিতেও তিনি নিজে গান্ধীজির এই এক্সপেরিমেন্টের কথা তুলে ধরেছেন।
কিন্তু এখন প্রশ্ন হচ্ছে গান্ধীজি কেন এই ধরনের অদ্ভুত এক্সপেরিমেন্ট করতেন আর এর কারণও তিনি নিজের কিছু চিঠি এবং লেখার মাধ্যমে জানিয়েছেন গান্ধীজির বয়স যখন 13 বছর তখন তার থেকে এক বছরের বড় কাস্তুরবা গান্ধীর সাথে তার বিয়ে হয় গান্ধীজি এই বিয়ে নিয়ে বেশ কিছু কথা বলেছিলেন যেহেতু আমরা বিয়ে সম্পর্কে তেমন কিছু জানতাম না।
তাই শুরুর দিকে এই বিয়ে ছিল আমাদের কাছে একটা নতুন পোশাক পড়া মিষ্টি খাওয়া এবং আনন্দ ফুর্তির মুহূর্ত তবে বিয়ের পর থেকেই গান্ধীজি অন্যান্য টিনেজারসদের মতোই কাস্তুরবা গান্ধীর প্রতি প্রচুর পরিমাণে সেক্সুয়ালি অ্যাট্রাক্টেড ফিল করতেন।
এমনকি পরবর্তীকালে গান্ধীজি নিজে এটা অনুতাপের সঙ্গে স্বীকারও করেছেন ছিলেন তিনি বলেন যে আমি স্কুলে মন দিয়ে পড়াশোনা করতে পারতাম।
কারণ আমি বারবার ভাবতাম কখন সন্ধ্যা হবে আর কখন আমি আমার স্ত্রীর সাথে গিয়ে গোপনের সময় কাটাবো এমনকি গান্ধীজি হাজবেন্ড হিসেবেও বেশ ডমিনেটিং ছিলেন তিনি তার স্ত্রীকে সবসময় নিজের কন্ট্রোলে রাখতে চাইতেন।
এবং অন্য কারো সাথে কথা বলতে তিনি বারণ করতেন এবং এটা নিয়ে রীতিমত তার স্ত্রীর সাথে প্রায়ই ঝগড়া হতো কস্তুরবা গান্ধী 17 বছর বয়সে প্রথমবার প্রেগনেন্ট হন।
তবে সেই সন্তান তার জন্মের কিছুদিন পরেই মারা যায় আর পরবর্তীকালে কাস্তুরবা দেবী আরো চারজন পুত্র সন্তানের জন্ম যাদের নাম হলো হরিলাল মনিলাল রামদাস ও দেবদাস তো গান্ধীজির বৈবাহিক জীবনেরই একদিন রাতের বেলায় তিনি যখন তার অসুস্থ বাবার পা টিপে দিচ্ছিলেন।
তখন তিনি ওই সময় নিজের স্ত্রীর সাথে সময় কাটানোর জন্য সেখান থেকে বারবার উঠে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন ।
এবং শেষমেষ তিনি একটা বাহানা দিয়ে ওখান থেকে উঠে তার স্ত্রীর কাছে চলে যান কিন্তু একটু পরেই একজন এসে তাকে জানায় যে তার বাবা বেঁচে নেই গান্ধীজি ওখান থেকে উঠে আসার কয়েক মিনিটের মধ্যেই তার বাবা মারা যান।
আর নিজের স্ত্রীর সাথে সময় কাটানোর জন্য গান্ধীজি তার বাবার শেষ মুহূর্তে তার পাশে থাকতে পারেননি এবং এটা নিয়ে গান্ধীজি পরবর্তীকালে অনেক অনুতপ্ত হয়েছিলেন।
আর এই ঘটনার উপর ভিত্তি করে 1906 সালে গান্ধীজি 38 বছর বয়সে ব্রহ্মচর্য ধারণ করেন এবার এই ব্রহ্মচর্য কি ব্রহ্মচর্যের প্রধান একটা সংকল্প হলো সেই পুরুষ বা নারী এরপর আর কোনদিন কোন শারীরিক সম্পর্ক করতে পারবেন না ।
এবার এই ব্রহ্মচর্য গান্ধীজি যে পালন করেছিলেন এই কাহিনীটা আপনাদেরকে এই কারণেই বললাম কারণ এই ব্রহ্মচর্যের দোহাই দিয়ে গান্ধীজি নগ্ন মহিলাদের সাথে রাতের বেলায় ঘুমাতেন 1944 সালের দিকে সারা দেশ ব্যাপক পরিমাণে হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়েছিল ।
আর এর কারণ হিসেবে গান্ধীজি নিজেকে দায়ী করতেন তিনি মনে করতেন যে তিনি ব্রহ্মচর্যকে সঠিকভাবে পালন করতে পারছেন না আর এই কারণেই এই দাঙ্গা হচ্ছে আর নিজের ব্রহ্মচর্য সংকল্পে তিনি অটল আছেন কিনা এটা পরীক্ষা করার জন্যই গান্ধীজি তার বিছানায় নগ্ন মেয়েদেরকে নিয়ে ঘুমাতেন ।
তবে তিনি কিন্তু তাদের কারো সাথে কোন ধরনের শারীরিক সম্পর্ক করতেন না তিনি তাদের সাথে ঘুমাতেন এটা প্রমাণ করার জন্য যে তার পাশে কোন নগ্ন অবস্থায় কোন মহিলা থাকলেও তিনি নিজেকে কন্ট্রোল করতে পারেন বা তার মধ্যে আত্মনিয়ন্ত্রণ রয়েছে।
কিন্তু ব্রহ্মচর্যের সাথে আত্মনিয়ন্ত্রণ হিন্দু মুসলিমের দাঙ্গার কি সম্পর্ক রয়েছে সেটা আজ পর্যন্ত আমি বুঝতে পারিনি আপনি যদি বুঝতে পারেন কমেন্ট করে অবশ্যই জানাবেন ।
আর শারীরিক সম্পর্ক না করলেও নিজের নাতির মত বয়সী মেয়েদের সাথে একই বিছানায় নগ্ন হয়ে শোয়া কতটা নৈতিক ইভেন আরো আশ্চর্যের বিষয় হলো গান্ধীজি কখনো নিজের এই এক্সপেরিমেন্টের কথা লুকাতেন না গান্ধীজির এই আচরণ কংগ্রেসের ছবিকে অনেক ক্ষতি করেছিল ।
সরদার বল্লভ ভাই প্যাটেল তাকে বেশ কয়েকবার চিঠি লিখে এই অদ্ভুত এক্সপেরিমেন্ট বন্ধ করতে বারণও করেছিলেন গান্ধীজির এই এক্সপেরিমেন্টের কথা যখন প্রকাশ্যে আসে তার অনেক সমর্থক তাকে ত্যাগ করেছিল ।
এবার গান্ধীজির ব্যাপারে এইটুকু শুনে যদি আপনি শক্ত হয়ে যান তাহলে আপনাদেরকে বলব যে আরো অনেক কিছু বাকি রয়েছে তো ভিডিওটা শেষ পর্যন্ত দেখতে থাকুন গান্ধীজি বলতেন যে নারীরা ধর্ষিত হয়েছে তারা মানুষ হিসেবে তাদের মানবিকতার মূল্য হারিয়ে ফেলেছে।
তারা আর পবিত্র নয় এমনকি গান্ধীজি এটাও মনে করতেন যদি কোন বাবা তার পারিবারিক মর্যাদাকে বজায় রাখার জন্য তার নিজ নিজের ধর্ষিতা মেয়েকে হত্যাও করে তাহলে সেটাও ন্যায়সংগত এছাড়াও গান্ধীজি মনে করতেন।
মেয়েদের যে ঋতুস্রাব হয় সেটা আসলে তাদের খারাপ সেক্সুয়াল চাহিদার বহিঃপ্রকাশ একবার আমেরিকান বার্থ কন্ট্রোল অ্যাক্টিভিস্ট মার্গারেট স্যাঙ্গার ভারতে ঘুরতে এসেছিলেন ।
এবং তিনিও যখন গান্ধীজির সাথে কথা বলেন তিনিও শক্ত হয়ে যান গান্ধীজি বলেন যে সেক্স শরীরের পক্ষে ক্ষতিকর এটি কেবলমাত্র সন্তান জন্ম দেওয়ার জন্যই করা উচিত।
এমনকি গান্ধীজি ইন্দ্রিয় সুখের জন্য সেক্স করাটাকে পাপ মনে করতেন তিনি বর্তমান দিনের বাথ কন্ট্রোল টুল যেমন ধরুন বিভিন্ন ধরনের কন্ট্রাসেপটিভ পিলস এই মেথড গুলোকে তিনি ভালো চোখে নিতেন না ।
তিনি মনে করতেন যে এতে সমাজে অবাধ যৌনতা বেড়ে যাবে সমাজে পুরুষ এবং নারীর মনে শুধুমাত্র সেক্সুয়াল চিন্তা ভাবনাই ঘুরবে গান্ধীজির উপরে আরো একটা অ্যাললিগেশন আনা হয় ।
যে গান্ধীজি একজন রেসিস্ট ছিলেন বা বর্ণবিদ্বেষী ছিলেন তো দিনটা ছিল 1893 সালের 7ই জুন সাউথ আফ্রিকাতে থাকাকালীন গান্ধীজি ডারবান থেকে প্রিটোরিয়া যাওয়ার জন্য ট্রেনের একটি ফার্স্ট ক্লাস টিকিট বুক করেছিলেন কিন্তু গান্ধীজির গায়ের রং কালো হওয়ায় ওই ট্রেনের একজন কর্মচারী গান্ধীজিকে থার্ড ক্লাস সিটে গিয়ে বসতে বলেন গান্ধীজি যেতে না চাইলে ওই কর্মচারী গান্ধীজিকে ট্রেন থেকে বের করে দেন।
আর এর কারণ ছিল গান্ধীজির গায়ের রং ব্রিটিশরা সাদা চামড়ার হওয়ায় একমাত্র তারাই ট্রেনের ফার্স্ট ক্লাসে ট্রাভেল করতে পারতো এই ঘটনা গান্ধীজিকে ভীষণ ভাবে আঘাত দিয়েছিল।
এবং এই বর্ণবৈষম্যের বিরুদ্ধে আফ্রিকাতে তিনি লড়াই শুরু করেছিলেন এবার সাধারণভাবে বর্ণবৈষম্যের বিরুদ্ধে লড়াই কি যে একটা মানুষের গায়ের রং দেখে তার বিচার না করা এটাই তো কিন্তু 2018 সালে ইউনিভার্সিটি অফ খানার একটা ভিডিও ভাইরাল হয়েছিল যেখানে দেখা যায় ।
গান্ধীজির স্ট্যাচু ওখানকার ছাত্ররা সরিয়ে ফেলেছেন যে স্ট্যাচুটা মাত্র দু বছর আগেই 2016 সালে ভারতীয় রাষ্ট্রপতি প্রণাব মুখার্জী ইউনিভার্সিটি অফ ঘানাকে গিফট করেছিল।
আর এই স্ট্যাচুটা সরানোর জন্য ওই ইউনিভার্সিটির কাউন্সিল সমেত 22200 জন ছাত্র একটা পিটিশন জমা দিয়েছিল আর এই মূর্তি সরিয়ে ফেলার কারণ হিসেবে তারা বলেছিলেন গান্ধীজি ছিলেন ।
একজন রেসিস্ট এবার প্রশ্ন হচ্ছে যে গান্ধীজি আফ্রিকায় বর্ণবিদ্বেষের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য এত বড় আন্দোলন করলেন সেই কালো চামড়ার মানুষরা কিভাবে তার সাথে স্বার্থপরের মত আচরণ করতে পারে গান্ধীজির অবদানকে তারা কিভাবে ভুলতে পারে আর এখানেই রয়েছে আসল ট্রিক্স গান্ধীজির এই বর্ণবৈষমীর বিরুদ্ধে করা লড়াই ছিল।
বায়াসড বা একপাক্ষিক গান্ধীজি বলতেন আফ্রিকার কালো মানুষদের কাজই হলো স্বীকার করা এবং কিছু পশু জোগাড় করা যা বিক্রি করে তারা একটা স্ত্রী জোগাড় করতে পারবে এবং বাকিটা জীবন তারা অলসতা এবং নগ্নতায় কাটিয়ে দেবে এমনকি গান্ধীজি সাউথ আফ্রিকার কালো মানুষদের কাফির নামে ডাকতেন ।
যে কাফির শব্দটা অত্যন্ত বাজে এবং অভদ্র শব্দ এমনকি গান্ধীজি মনে করতেন ইংরেজরা জাতিতে সবচেয়ে উঁচু এবং ভারতীয়রা তারপরে এবং ভারতীয়দের নিচে ও জাতিতে নিকৃষ্ট হলো এই সাউথ আফ্রিকানরা বা কালো চামড়ার মানুষেরা গান্ধীজি মনে করতেন যে ভারতীয়দের আফ্রিকানদের থেকে বেশি সম্মান দেওয়া উচিত ।
আশা করি আপনারা বুঝতে পারছেন ঐতিহাসিক বিনয়লাল বলছেন গান্ধীজি একজন রেসিস্ট ছিলেন এটা সত্যি কিন্তু এটা তার জীবনের প্রথম দিকের ধারণা ছিল পরবর্তীকালে তার ধারণার অনেক পরিবর্তন হয়েছিল 1908 সালে গান্ধীজি বলেছিলেন ভারতীয় এবং আফ্রিকানদের মর্যাদা এবং অধিকার সবদিক থেকে সমান তাই তাদের যোগ্য সম্মান দেওয়া উচিত।
তাছাড়া তিনি পরবর্তী আরো বলেছিলেন যে আমি বর্ণে বিশ্বাস করি না আমি মানুষের মধ্যে কোন বৈষম্যে বিশ্বাস করি না এমনকি গান্ধীজি তার আশ্রমে চারজন কালো চামড়ার আফ্রিকানকে সদস্য হিসেবে রেখেছিলেন।
তবে ভারতেও কিন্তু তার বর্ণবিদ্বেষী মনোভাব স্পষ্ট ছিল ব্রিটিশ আমলে ভারতের কাস্ট সিস্টেম অত্যন্ত ভয়ানক আকার ধারণ করেছিল ।
যার জলজ্যান্ত উদাহরণ হলো ডক্টর বিআর আম্বেদকরের জীবন আসলে বিআর আম্বেদকর মধ্যপ্রদেশের মোহ নামক একটি জায়গায় অত্যন্ত গরীব এবং দলিত মাহার পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছিলেন মাহার সম্প্রদায় সে সময় একটা অত্যন্ত নিচু হিন্দু দলিত সম্প্রদায় ছিল সমাজের সব ক্ষেত্রে তারা বঞ্চনার শিকার হতেন।
তারা ধর্মে হিন্দু হওয়া সত্ত্বেও তাদের মন্দিরে যাওয়ার কোন অধিকার ছিল না এমনকি যে পুকুর সমাজের বাকি উচ্চবর্ণের লোকেরা ব্যবহার করতো তারা সেই পুকুর ব্যবহার করতে পারতো না পাঠশালায় উঁচু জাতের ছেলেমেয়েদের পাশে একই রুমে বসে পড়াশোনা করতে পারতো না তাকে গ্লাসরুমের বাইরে বসে পড়াশোনা করতে হতো।
এমনকি জল খাওয়ার জন্য তাকে একটা আলাদা কলসির ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়েছিল আর সেই কলসি থেকেও তিনি নিজে জল গড়িয়ে খেতে পারতেন না।
ওই কলসি থেকে জল গড়িয়ে দেওয়ার জন্য একজন পিয়ন রাখা ছিল আর যেদিন সেই পিয়ন স্কুলে আসতেন না সেদিন চেষ্টা পেলেও বিআর আম্বেদকরকে জল না পান করে স্কুলে ক্লাস করতে হতো আর এটা কিন্তু শুধুমাত্র বাবাসাহেব আম্বেদকরের সাথে হয়েছে এমন কিন্তু নয়।
সমাজের প্রত্যেকটা নিচু জাতির মানুষকে এগুলো সহ্য করতে হতো এই কারণে 1931 সালে গোল্ড টেবিল বৈঠকে হিন্দু সমাজের নিচু জাতির অবস্থার উন্নতির জন্য আম্বেদকর একটা সেপারেট ইলেক্টোরেটের দাবি তুলেছিলেন।
তিনি বলেন যে এমন একটা নির্বাচন কেন্দ্র তৈরি করতে হবে যেখানে কেবলমাত্র দলিত সম্প্রদায় থেকে কেউ একজন দলিত প্রার্থীকেই মনোনীত করতে পারবে এবং একমাত্র তাকেই ভোট দিতে পারবে।
আর 1932 সালে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী রামজি ম্যাকডোনাল্ড আম্বেদকরের এই সেপারেট ইলেক্টরেটের প্রস্তাবে রাজি হয়ে যান কিন্তু গান্ধীজি এই প্রস্তাবে রাজি হননি উল্টে তিনি এর প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন ।
তিনি মনে করতেন যে দলিত কিংবা অন্য কোন সম্প্রদায়কে আলাদা ভোটের সুযোগ দেওয়া উচিত নয় এর ফলে সমাজে বিভেদ সৃষ্টি হবে এমনকি প্রস্তাব আটকানোর জন্য গান্ধীজি অনুসরণ শুরু করেছিলেন।
শেষ পর্যন্ত আম্বেদকরের সাথে গান্ধীজির পুনা চুক্তি সই হয় এবং এই চুক্তিতে কেন্দ্রীয় আইনসভায় দলিতদের জন্য 18% আসন সংরক্ষিত করা হয়।
এবার অনেক গান্ধীবাদী হয়তো ভাববেন যে ভাই তুমি এই একটা কারণের জন্য গান্ধীজিকে বর্ণবিদ্বেষী বলতে পারো না তাহলে বলব যে ওয়েট করুন আমার কাছে আরো বেশ কিছু কারণ রয়েছে।
ভারতে ভাঙ্গি নামে একটি জাতি রয়েছে গান্ধীজি বলেন এই ভাঙ্গিরা সমাজের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ কারণ এই ভাঙ্গিরা নোংরা পরিষ্কার করে একজন আদর্শ ভাঙ্গি সে যে ভালো টয়লেট ক্লিন করতে পারে ।
গান্ধীজির এই ধরনের মন্তব্যের জন্য দলিত সম্প্রদায় ব্যাপক পরিমাণে তার সমালোচনা করতো শুধু তাই নয় গান্ধীজি একজন অত্যন্ত স্পিরিচুয়াল এবং অর্থোডক্স প্রকৃতির লোক ছিলেন।
তিনি ইন্টারকাস্ট ম্যারেজকে সমর্থন করতেন না তার ছেলে মনিলাল যখন ফাতিমা নামের একজন মুসলিম মেয়ের প্রেমে পড়েছিলেন।
তখন গান্ধীজি সেই বিয়েতে বাধা দিয়েছিলেন এবং পরবর্তীকালে মনিলাল এক হিন্দু মেয়েকেই বিয়ে করেছিলেন এখানেই শেষ নয় গান্ধীজির আরেক ছেলে দেবদাস লক্ষ্মী নামে একটি নিচু জাতির মেয়ের প্রেমে পড়েছিলেন এবং সেখানেও গান্ধীজি বাধা সৃষ্টি করেছিলেন।
যদিও তিনি পরবর্তীকালে বিয়েতে তার মত দিয়েছিলেন তবে এখানে কিন্তু একটা বিষয় আপনারা লক্ষ্য করতে পারবেন গান্ধীজির চিন্তা ভাবনা সময়ের সাথে সাথে পরিস্থিতির সাথে সাথে বদলাতো যখন তার মনে হতো তার এই চিন্তাধারা সময়ের সাথে খাপ খাচ্ছে না ।
তখন তিনি তার এই চিন্তাধারাকে বদলে ফেলতেন যে কারণে আজও অনেক আফ্রিকান গান্ধীজিকে ভালো নজরে দেখেন না এমনকি বিআর আম্বেদকরও মনে করতেন ।
গান্ধীজি শুধুমাত্র দলিতদের ভোট এবং কংগ্রেসে তাদের সাপোর্ট বাড়ানোর জন্য তাদেরকে সমর্থন করেছিলেন এবং শুরুর দিকে তিনিও বর্ণপ্রথাকে সমর্থন করতেন।
তবে যে গান্ধীজি সারাজীবন অহিংসার পথে হেঁটেছেন তার বিরুদ্ধে এটা বলা হয় যে গান্ধীজি হিটলারের খুব ভালো বন্ধু ছিলেন আর তার প্রমাণ হিসেবে হিটলারকে লেখা গান্ধীজির দুটো চিঠি তুলে ধরা হয় ।
প্রথম চিঠিটা তিনি লিখেছিলেন 1939 সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরুর আগে হিটলারের কাছে এই লেখা চিঠিতে গান্ধীজি যুদ্ধ না করার জন্য হিটলারকে অনুরোধ করেছিলেন।
এবং দ্বিতীয় চিঠিটা তিনি লিখেছিলেন 1940 খ্রিস্টাব্দে এই চিঠিতে তিনি হিটলারকে বিশ্বযুদ্ধ থামানোর কথা বলেন এবং তার ভয়ঙ্কর কার্যকলাপের সমালোচনা করেন তবে দুটো চিঠিতেই গান্ধীজি হিটলারকে ডিয়ার ফ্রেন্ড বলে সম্বোধন করেছিলেন ।
আর এই ডিয়ার ফ্রেন্ড নিয়ে অনেকে বলে থাকেন যে গান্ধীজির সাথে হিটলারের খুব ভালো সম্পর্ক ছিল তবে অনেক হিস্ট্রিয়ান এটা মনে করেন যে এই ডিয়ার ফ্রেন্ড শব্দটা একটা সৌজন্যশীলতা ছাড়া আর কিছুই ছিল না।
এবার আপনাদের এই বিষয়ে মতামত কি কমেন্ট করে অবশ্যই জানান গান্ধীজির বিষয়ে আরো একটা অ্যাললিগেশন আনা হয় যে গান্ধীজি ইন্ডাস্ট্রিয়াল আইডিওলজির বিরোধী ছিলেন গান্ধীজি সর্বদা আত্মনির্ভর বা সেলফ ডিপেন্ডেন্ট এর উপর বিশ্বাস করতেন।
এবং তিনি সাধারণ জীবনযাপন বা সিম্পল লিভিং এর উপর বেশি জোর দিতেন আর গান্ধীজি মনে করতেন কোন দেশের ততটুকুই উৎপাদন করা উচিত।
যতটুকু তার দরকার কোন দেশের আমদানি বা রপ্তানি করা উচিত নয় যেটা আজকের দিনে একেবারে একটা অবাস্তব চিন্তাভাবনা তাছাড়া গান্ধীজি ইন্ডাস্ট্রিয়ালাইজেশনে সম্পূর্ণভাবে বিরোধিতা করতেন দেখুন আজ যে news আমি বানিয়েছি সেই news উদ্দেশ্য কিন্তু গান্ধীজির ক্যারেক্টারকে কালিমা লিপ্ত করা নয় গান্ধীজি একজন পার্সন ছিলেন ।
একজন মানুষ ছিলেন তার লাইফেও কিছু যেমন ডার্ক চ্যাপ্টার ছিল তেমন তার লাইফে কিছু ভালো দিকও রয়েছে।
সেই ভালো দিকের সম্বন্ধে আমাদের ইতিহাস বইতে আমাদের সমাজে প্রচুর পরিমাণে আলোচনা করা হয় । কিন্তু তার ডার্ক সাইটগুলো নিয়েও আমাদের কথা বলা উচিত।
কারণ আজকের দিনে আমরা অনেক পলিটিশিয়ানস বলুন অনেক সেলিব্রিটিস তাদের কথা বেদবাক্যের মত পালন করি মানে যেন ও যেটা বলছে সেটাই ঠিক উনি যেটা বলছেন সেটাই ঠিক তা নয় কারণ আজ থেকে 70 বছর আগেও গান্ধীজি যে থিংকিংটা রাখতেন।
সেটা কিন্তু আজকের দিনে আপনি যদি সেই থিংকিং রাখেন তাহলে কিন্তু সমাজ আপনাকে মেনে নেবে না সো আপনি একজন লিভিং থিং আপনার নিজের বিচার করার ক্ষমতা আছে ।
ঈশ্বর আপনাকে প্রেম দিয়েছে তো নেক্সট টাইম থেকে আপনি যখনই কোন কথা শুনবেন কোন কথা জানবেন ।
দেখা হবে পরের নিউজে ততদিন ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন।