ডার্ক সাইকোলজি: ইমপ্রেস ও অ্যাট্রাক্ট করার শক্তিশালী টেকনিক
ডার্ক সাইকোলজি এমনই এক পাওয়ারফুল টেকনিক, যেটাকে ইউজ করে তুমি তোমার ক্রাশ বা যাকে ইমপ্রেস করার কথা ভাবছো, তাকে খুব সহজেই ইমপ্রেস করতে পারবে। অনেক মানুষ ডার্ক সাইকোলজিকে কালো জাদু ভাবে, কিন্তু এটা কোন ব্ল্যাক ম্যাজিক নয়। তবে যে কাউকে নিজের দিকে অ্যাট্রাক্ট করা বা ইমপ্রেস করা কোনো জাদুর থেকে কম কিছু নয়। কাউকে ইমপ্রেস করার জন্য ডার্ক সাইকোলজি অবশ্যই কাজ করে। এটি একটি সাইন্টিফিক হিডেন টেকনিক, যেটার দ্বারা তুমি খুব সহজেই যেকোনো ব্যক্তিকে নিজের দিকে আকর্ষিত করতে পারবে। শুধু তোমার এটার ব্যবহার সঠিকভাবে জানতে হবে।
উইকিপিডিয়া অনুসারে, হিউম্যান এবং নন-হিউম্যান অর্গানের মন ও তাদের ব্যবহারকে পড়া ও বোঝাকে সাইকোলজি বলে। সাইকোলজিতে ফিলিংস, ভাবনা-চিন্তা, আকর্ষণ—এই সবকিছু ইনক্লুড রয়েছে। আজকের এই ভিডিওতে কাউকে ইমপ্রেস বা আকর্ষিত করার এমন কিছু সাইকোলজিক্যাল পাওয়ারফুল ট্রিক বলবো, যেটার ব্যাপারে হয়তো তুমি আগে থেকে জানোই না। তাই স্কিপ না করে ভিডিওটি পুরোটা দেখো।
ট্রিক ১: লুক এট দেয়ার ফোন হেড
তোমরা হয়তো ডোপামিন হরমোনের ব্যাপারে জানো। এটাকে আমরা লাভ হরমোনও বলে থাকি। যখন ডোপামিন হরমোন রিলিজ হয়, তখন অটোমেটিকালি সামনের জনের তোমার প্রতি আকর্ষণ বেড়ে যায়। সাইন্স অনুসারে, ফোরহেড এমন একটি পার্ট, যখন তুমি সামনের জনের ফোরহেডকে কন্টিনিউয়াসলি দুই থেকে তিন মিনিট দেখো, তখন ছেলেদের তুলনায় মেয়েদের বডি থেকে ডোপামিন বেশি করে রিলিজ হতে থাকে। যখন ডোপামিন বডি থেকে রিলিজ হয়, তখন বডির ব্লাড ফ্লো বেড়ে যায় এবং সামনের জনের প্রতি হওয়া ফিলিংস আরও তীব্র হয়, যাকে মেডিকেল সাইন্সের ভাষায় লাভ অ্যাট্রাকশন বলা হয়।
২০১০ সালে আমেরিকায় একজন সাইকোলজিস্ট একটি ম্যাগাজিনে লাভ অ্যাট্রাকশন সম্পর্কে কিছু আর্টিকেল শেয়ার করেছিলেন। তিনি বলেন, যখন তিনি তার ট্রিটমেন্টের জন্য হাসপাতালে যান, তখন তার ডাক্তার চিকিৎসা করার সময় তার ফোরহেডকে আই কন্টাক্টের সাথে এক মিনিট পর্যন্ত দেখেছিলেন। তখন মেয়েটি নিজেও জানে না, সে কিভাবে ওই ডাক্তারের প্রেমে পড়ে যায়। এটা কেন হয়েছিল? কেন ওই মেয়েটি ডাক্তারের প্রতি আকর্ষণ অনুভব করছিল? সে কিছুই বুঝতে পারছিল না। তার মনে সারাদিন শুধু ওই ডাক্তারের কথাই ঘুরছিল।
ট্রিক ২: লুক এট দেয়ার আইব্রোস
যদি সামনের জনকে ইমপ্রেস করতে হয়, তবে অবশ্যই তার আইব্রোকে দেখবে। BetterHelp.com একটি ফেমাস এবং পপুলার ওয়েবসাইট, যেটা রিলেশনশিপ, অ্যাট্রাকশন, সাইকোলজি এবং টিপসের বিষয়ে আর্টিকেল পাবলিশ করে। এখানে যেসব আর্টিকেল পাবলিশ করা হয়, সেগুলো রিলেশনশিপ এক্সপার্ট বা বড় বড় সাইকোলজিস্টরাই করে।
BetterHelp.com অনুযায়ী, যখন তুমি কোনো মেয়ে বা ছেলের আইব্রোকে কন্টিনিউয়াসলি এক থেকে দুই মিনিট পর্যন্ত দেখতে থাকো, তবে তার বডিতে ফেরোমোনস ও নিউরো ট্রান্সমিটার অ্যাক্টিভ হয়ে যায়। ফলে তার শরীর থেকে ডোপামিন রিলিজ হতে থাকে, যার ফলে শরীরের ব্লাড ফ্লো বেড়ে যায়, ব্রিদিং ইনক্রিজ হতে থাকে। এভাবে সামনের জন না চাইতেও তোমার প্রেমে পড়ে যায় এবং দিন-রাত তোমার কথাই ভাবতে থাকে।
ট্রিক ৩: ফাস্ট এট্রাক্ট দেম, দেন স্টার্টেড টু ইগনোর দেম
তুমি যত ইগনোর করবে, সামনের জন ততই তোমার কথা ভাবতে থাকবে এবং সে তোমার প্রতি আকর্ষণ অনুভব করবে। এটা একটা পাওয়ারফুল ট্রিক। যদি তুমি একে সঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারো, তাহলে এটা ছেলে-মেয়ে সকলের ওপর এপ্লাই করা যায়।
যদি তুমি তোমার ক্রাশকে ইমপ্রেস করতে চাও বা চাও সে তোমার কথাই সারাদিন ভাবুক, তবে প্রথমে তার সামনে গিয়ে কিছু কথা বলবে এবং তাকে এটা ফিল করাতে হবে যে তুমি সবসময় তার পাশে থাকবে, তাকে সাপোর্ট করবে। কিছুদিন এরকম করার পর সামনের জনও তোমার সাথে কথা বলা শুরু করবে, কল করবে, মেসেজ করবে। আর তখনই তোমাকে তাকে ইগনোর করা শুরু করতে হবে। তখন মেয়ে বা ছেলেটি নিজ থেকেই তোমায় ইমপ্রেস করার চেষ্টা করবে।
ট্রিক ৪: চ্যালেঞ্জ দেয়ার ইন্টারেস্ট
রিভার্স সাইকোলজি সম্পর্কে তোমরা হয়তো শুনে থাকবে। অর্থাৎ, যে জিনিস তুমি করতে চাইবে না, সিচুয়েশন তোমায় সেটাই করতে বাধ্য করবে। ঠিক সেরকমভাবেই, যদি তুমি সামনের জনের ইন্টারেস্টে হ্যাঁ তে হ্যাঁ মিলিয়ে যাও, তবে সে তোমার প্রতি আকর্ষিত হবে না। কারণ, যদি তুমি প্রতিটি কথায় "হ্যাঁ" বলতে থাকো, তবে সে নিজেকে তোমার থেকে বেশি স্মার্ট ভাববে।
ট্রিক ৫: ডোন্ট অ্যাক্ট লাইক এ নিডি ম্যান
"The Art of Charm" এ বলা হয়েছে, যে ছেলে বা মেয়েটি তার ক্রাশ থেকে বারবার এটেনশন পাওয়ার চেষ্টা করে এবং তাদের পার্সোনাল লাইফে ইন্টারফেয়ার করে, তাদের "নিডি ম্যান" বলা হয়। এরকম ব্যক্তিত্বের মানুষের দ্বারা কেউ আকর্ষিত হয় না।
সাইকোলজি বলে, যদি কাউকে ইমপ্রেস করার জন্য তুমি অতিরিক্ত চেষ্টা করো, তবে সামনের জন তোমাকে বিরক্তিকর মনে করবে। কারণ, মানুষের স্বভাব এমনই যে তারা যদি বেশি এটেনশন পায়, তবে তারা ভাব দেখানো শুরু করে দেয়। তাই তুমি এই ভুল কখনো করো না।
ট্রিক ৬: মেক আই কন্টাক্ট ফর ২-৩ মিনিটস অনলি
সাইকোলজি বলে, মানুষ যেটা খুব মন দিয়ে দেখে, সেটা তার মনে সবসময় ভিজুয়ালাইজ হতে থাকে। যখন সামনের জনের সাথে তুমি ২-৩ মিনিটের জন্য আই কন্টাক্ট করবে, তখন তোমার ছবি তার ব্রেইনে স্টোর হয়ে যাবে এবং রাতে তার মাইন্ডে ভিজুয়ালাইজ হতে থাকবে। ফলে, সে শুধু তোমার কথাই ভাববে এবং তোমার সাথে কথা বলার জন্য চেষ্টা করবে। তবে আই কন্টাক্ট করার সময় তোমার হালকা হাসি রাখতে হবে।
শেষ কথা
বন্ধুরা, এগুলি ছিল কিছু সাইকোলজিক্যাল ট্রিক, যেগুলো ব্যবহার করে তুমি তোমার ভালোবাসার মানুষটিকে ইমপ্রেস করতে পারবে। যদি ভিডিওটি ভালো লাগে, তবে একটি লাইক, কমেন্ট, শেয়ার এবং সাবস্ক্রাইব অবশ্যই করে দিও!